পুরাকালে বারণসিরাজ ব্রহ্মদত্তের সময়ে বোধিসত্ত্ব বাণিজ্য করে জীবন ধারণ করতেন। তখন কাশী রাজ্যের এক গ্রামে অনেক সূত্রধর বাস করত। তারা কাঠ দিয়ে নানারকম আসবাব তৈরি করত। সেখানে একদিন এক বৃদ্ধ সূত্রধর কাঠ কেটে আসবাবপত্র তৈরির কাজ করছিল। পাশে তার পুত্র ব সে ছিল। এমন সময় এক মশক তার মাথায় বসে সুঁচালো হুল ফুটিয়ে দিল। সে পুত্রকে ডেকে বলল, 'বৎস, আমার মাথায় মশক হুল ফুটিয়ে রক্ত পান করছে। তুমি মশকটি তাড়িয়ে দাও।' পুত্র বলল, 'বাবা, আপনি স্থির থাকুন। আমি এক আঘাতেই মশকটি মেরে ফেলব।' ঐ সময় বোধিসত্ত্ব পণ্যসম্ভার নিয়ে বৃদ্ধ সূত্রধরের বাড়ির সামনে এসে হাজির হলেন। তিনি বাড়ির সামনে বসলেন। তিনি বসলে সূত্রধর আবার বলল, 'বৎস, মশকটি তাড়িয়ে দাও।' তখন তার ছেলে 'তাড়াচ্ছি' বলে এক প্রকাণ্ড তীক্ষ্ণধার কুঠার উত্তোলন করল এবং পিতার পেছন দিক থেকে 'মশা মারি', 'মশা মারি' বলতে বলতে বৃদ্ধের মাথায় জোরে আঘাত করল। সাথে সাথে বৃদ্ধের

মাথা ফেটে রক্ত বের হতে লাগল এবং বৃদ্ধ মৃত্যুমুখে পতিত হলো। বোধিসত্ত্ব এই কাণ্ড দেখে হতবাক হয়ে গেলেন। তিনি ভাবলেন, এত নির্বোধ লোক কোথাও দেখিনি। এরূপ মূর্খের চেয়ে পণ্ডিত শত্রুও অনেক ভালো। কারণ যিনি বুদ্ধিমান তিনি শাস্তির ভয়ে মানুষ হত্যা থেকে বিরত থাকেন। কিন্তু ছেলেটি এতই মূর্খ যে মশা মারতে গিয়ে নিজের বাবাকে মেরে ফেলল।
মূর্খ ছেলের এই কাজ দেখে বোধিসত্ত্ব একটি গাথা আবৃত্তি করে সে স্থান ত্যাগ করলেন। গাথাটি হলো:
বুদ্ধিমান শত্রু সেও মোর ভালো
নির্বোধ মিত্রে কী কাজ?
মশক মারিতে বধিল পিতারে
মহামূর্খ পুত্র আজ।
উপদেশ: মূর্খ বন্ধুর চেয়ে বুদ্ধিমান শত্রু ভালো।
অনুশীলনমূলক কাজ সূত্রধর কী কাজ করছিল? |
Read more